মঠবাড়িয়ায় বিনামূল্যে সরকারী পাঠ্য বই বিতরণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ

মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি (পিরোজপুর)।।
২০২৪ সালে ১ জানুয়ারী বই উৎসব পালন উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠ্যবই পৌছে দেয়ার লক্ষে বিনামূল্যে সরকারের পাঠ্যবই বিতরণে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দু’কর্মচারির বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠছে। ওই দপ্তরের অফিস সহকারী কাম ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মোঃ নজরুল ইসলাম ও অফিস সহায়ক মোঃ হায়দার আলী সরকারী বই বিতরণে তাদের দাবীকৃত অর্থ না দিলে বই দিতে গড়িমসি ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথেও দূর্ব্যবহার করারও অভিযোগ ওঠছে। ফলে সরকারের বিনামূল্যের বই বিতরণ কার্যক্রম ব্যহত হওয়ায় শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানাযায়-উপজেলায় ৪৮টি মাদ্রাসা ও ৪৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আগামী ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে ১লা জানুয়ারী হতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে বই বিতরণ উৎসব পালন উপলক্ষে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কক্ষ হতে গত ২৯ নভেম্বর ২৫ মাদ্রাসায় বই বিতরণ করে। বই বিতরনের সময় শিক্ষা অফিসের অফিস সহাকারী কাম ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ও অফিস সহায়ক হায়দার আলী শিক্ষকদের জিম্মি করে প্রতি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২০০/২৫০ টাকা আদায় করে। ওই দু’কর্মচারী তাদের দাবীকৃত টাকা না দিলে দূর্ব্যহার ও বই দিতে গড়িমসি করে।

ফুলঝূড়ি ওয়াজিদিয়া দাখিল মাদ্রাসার জুনিয়র মৌলভি শাহআলম জানান, তিনি ওইদিন মাদ্রাসার বই আনতে গেলে তার কাছ থেকে ২’শ টাকা অফিস সহায়ক হায়দার আলী নিয়েছেন বলে জানান।

আঃ ওহাব মহিলা আমিল মাদ্রাসার ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারী নুর হোসেনও অভিযোগ করেন তার মাদ্রাসার প্রথম হতে ৫ম ও ৬ষ্ঠ হতে ৭ম শ্রেণীর সাড়ে তিনশত শিক্ষার্থীদের বই গ্রহনের সময় ওই দু’কর্মচারীকে ২’শত টাকা দিতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন এটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে সরকারী বিনামূল্যের বই আনতে গেলে ওই দু’কর্মচারীকে টাকা দিয়েই আনতে হয়েছে।

মিঠাখালী গুদিঘাটা আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ মাহফুজুল্লাহ অভিযোগ করেন- পাশ্ববর্তী উপজেলার বাসিন্দা শিক্ষা অফিসের ওই দু’কর্মচারী নজরুল বিশ বছর ও হায়দার দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে মঠবাড়িয়ায় কর্মরত থেকে অত্র অফিস দূর্ণীতির আখরায় পরিণত করেছে। শুধু তাই নয় অফিস সহায়ক হায়দার সকল প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছে।

এ ব্যপারে অফিস সহকারী মোঃ নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে বার বার ফোন দিলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অফিস সহায়ক মোঃ হায়দার আলী তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন- ওই সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মচারী নিয়ে বই গোছানোর কাজে ব্যস্ত ছিলাম। টাকা নেয়ার প্রশ্নই আসে না। তবে কোন শিক্ষক যদি কর্মচারীদের স্বেচ্ছায় চা নাস্তা খাওয়ার টাকা দেয় তার জন্য আমি দায়ী নই।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আবুল খায়ের বলেন- সরকারের বিনামূল্যের বই বিতরণে টাকা নেয়ার কোন সুযোগ নেই। যদি তার অফিসের কোন কর্মচারী অর্থ নিয়ে থাকেন সেটা দুঃখজনক। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।