কলাপাড়ায় তিন বছর সংসার করার পর ভাবিকে বিয়ে করার কথা অস্বীকার দেবরের

কলাপাড়া প্রতিনিধি (পটুয়াখালী)।।
হাওয়া বেগমের তার নিযুক্ত উকিল সঠিক ভাবে মামলা লড়ছেন না। টাকা না থাকায় কেউ তার কথা শুনছেন না। জসিমের তদবিরের কাছে তিনি পরাজিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বিচারের বানী নিভৃতে কাঁদে এ জন্য বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শতবর্ষ পূর্বে যে অমূল্য বক্তব্যটি লিপিবদ্ধ করে রেখেছিলেন, যুগে যুগে তার সত্যতা বহন করে চলছে আইনের জগতে। দীর্ঘ এক শতাব্দীর পর হাওয়া বেগমের বেলায় তা যেন শতভাগ প্রকৃষ্ট প্রমান। এ যেন আইনের জগতে অকল্পনীয়। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা বালিয়াতলী ইউনিয়নে কোম্পানীপাড়া গ্রামের বড় ভাই মারা যাওয়ার পর দুই পরিবারের সম্মতিতে দেবরের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল দুই সন্তানের জননী হাওয়া বেগমের (৩৩)। এই ঘটনার তিন বছর পর বিয়ে অস্বীকার করেছেন দেবর জসিম হাওলাদার। শুধু তাই নয়, হাওয়াকে সন্তানসহ বাড়ি থেকে মারধর করে তাড়িয়ে দিয়েছেন শ্বশুর বারেক হাওলাদার।

এ ঘটনায় আদালতে মামলা করলেও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে হাওয়া বেগম ও তার দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে। দুই সন্তান নিয়ে বাবার সংসারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। হাওয়া বেগম কুয়াকাটা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের নবীনপুর গ্রামের জালাল হাওলাদারের ছয় সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়।

হাওয়া বেগম ও তার পরিবার জানান, ২০০৬ সালের ১ মে উপজেলা কোম্পানীপাড়া গ্রামের মো. বেল্লাল হাওলাদারের সঙ্গে হাওয়া বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যা ও একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর ধান কাটতে গিয়ে সাপের কামড়ে মারা যান বেল্লাল হাওলাদার। দুই সন্তনের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে উভয় পরিবারের সম্মতিতে ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর মাস্টার্স পাশ দেবর জসিম হাওলাদারের সঙ্গে পুনরায় বিয়ে হয় হাওয়া বেগমের। তবে মেয়ে পক্ষের আগ্রহ থাকলে বিয়ে রেজিষ্টি করা হয়নি।

বিয়ের তিন বছরের মধ্যে বড় ভাই বেল্লাল হাওলাদারের রেখে যাওয়া অর্থ সম্পদ হস্তন্তগত করেন জসিম হাওলাদার। এর পর থেকে হাওয়াকে বিয়ের কথা অস্বীকার করে আসছেন জসিম। তিনি বাড়িতে আসা এবং ভরণ-পোষণ বন্ধ করে দিয়েছেন। এক পর্যায়ে শ্বশুর বারেক হাওলাদার বেধড়ক মারধর করে দুই সন্তানসহ হাওয়াকে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেন।

এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কয়েক দফা সালিশ হয়। সালিশের সিদ্ধান্ত মেনেও নেন শ্বশুর বাড়ির লোকজন। কিন্তু হাওয়া বেগম দুই সন্তান নিয়ে ওই বাড়িতে গেলেই চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। পরে ২০২২ সালের ২৬ মে তিনি পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। মামলার তদন্তভার দেয়া হয় কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হাওলাদারকে। তিনি দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় হাওয়া বেগমের বর্তমান স্বামী ও শ্বশুর বিয়ের কথা স্বীকার করে সমঝোতা করবেন – এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে তারা সমঝোতা না করায় পৌর মেয়র আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

মামলাটি এখনো চলছে। কিন্তু হাওয়া বেগমের অভিযোগ, তাদের নিযুক্ত উকিল সঠিক ভাবে মামলা লড়ছেন না। তিনি বলেন, টাকা না থাকায় কেউ তার কথা শুনছেন না। জসিমের তদবিরের কাছে তিনি পরাজিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শতবর্ষ পূর্বে যে অমূল্য বক্তব্যটি লিপিবদ্ধ করে রেখেছিলেন, যুগে যুগে তার সত্যতা বহন করে চলছে আইনের জগতে। দীর্ঘ এক শতাব্দীর পর হাওয়া বেগমের বেলায় তা যেন শতভাগ প্রকৃষ্ট প্রমান। এ যেন আইনের জগতে অকল্পনীয়।

এদিকে জসিম আদালতে বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করছেন না। তবে বিয়ে বিষয়টি স্বীকার করে আদালতে একটি ‘স্বীকারোক্তিনামা’ দিয়েছেন বিবাহ সম্পন্নকারী স্থানীয় মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. লিটন মুন্সী, মাদ্রাসা শিক্ষক মো. সোহাইব, গ্রাম পুলিশ মো. ইউসুফ আলী এবং মো. লিটন হাওলাদার ও মো. বাবুল মোল্লা।

জসিম হাওলাদারের ছোট ভাই মাসুদ হাওলাদার বলেন, আমার বড় ভাই বেল্লাল হাওলাদার মারা যাওয়ার পর পরিবারের সকলের সম্মতিতে হাওয়া বেগমকে বিয়ে করেন জসিম। এর কয়েক বছর পর জসিম সেই বিয়ে অস্বীকার করেন। পরে শুনছি ভাবি আদালতে মামলা করেছেন। আমি দীর্ঘ বছর ঢাকায় আছি। এখন মামলা কোন পর্যায়ে আছে আমি জানি না।

স্থানীয় মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. লিটন মুন্সী বলেন, উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে আমি বিবাহকার্য সম্পন্ন করেছি। কয়েক বছর পর জসিম অস্বীকার করছেন। পরবর্তীতে আদালতে মামলা হয়েছে। আমি আদালতে লিখিত স্বীকারোক্তিনামা দিয়েছি। এখন কি হয়েছে আমার জানা নেই।
স্থানীয় গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) ইউসুফ আলী বলেন, স্বীকারোক্তিনামায় আমিও স্বাক্ষর করেছি। জসিম হাওলাদার ও তার পরিবার হাওয়া বেগমের সঙ্গে চরম অন্যায় করছেন।

এ বিষয়ে জসিম হাওলাদারের ব্যবহৃত ০১৭৮০৯৬১৪০০ নম্বরের মোবাইল ফোন রিসিভ করলে পরিচয় দিলে কোন কথা না বলে ফোন কেটে দেয়। এর পর আর ফোন রিসিভ করেনি। এজন্য তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।

কলাপাড়া থানার (ভরপ্রাপ্ত )ওসি আলী আহম্মদ জানান, এ ব্যাপারের এখন ও পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পায়নি।

কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বলেন, হাওয়া বেগম বাদী হয়ে পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেছিলেন। আদালত তদন্তে জন্য আমার ওপর দায়িত্ব দেন। আমি উভয় পক্ষকে ডেকে মীমাংসার চেষ্টা করছিলাম। জসিম ও তার বাবা আমার কাছে বিয়ের কথা স্বীকার করলেও আদালতে অস্বীকার করছেন।