বামনায় ভূল চিকিৎসায় প্রসূতি মা ও নবজাতকের মৃত্যু,সুন্দরবন হসপিটাল সিলগালা

গোলাম কিবরিয়া বরগুনা।।
বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা কলেজ রোডে অবস্থিত সুন্দরবন হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সোমবার (১৫ জানুয়ারি) রাত পোনে ১০ টায় এক হাতুরে ডাক্তার দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় প্রসূতি মেঘলা আক্তার(১৯) এবং নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। পরে মঙ্গলবার সকালে বামনা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা টিএইচএ সুন্দরবন হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তালা লাগিয়ে সিলগালা করে দেন।

নিহতর পরিবারের সূত্রে জানা যায়,বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ মিজানুর রহমান ও ইউপি সদস্য মো: রেজাউল ইসলামের মালিকানাধীন উপজেলার ডৌয়াতলা কলেজ রোডে অবস্থিত সুন্দরবন হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সোমবার বিকালে উপজেলার উত্তর রামনা গ্রামের মোঃ রফিকুল ইসলাম (তারেক) এর স্ত্রী প্রসূতি মোসাঃ মেঘলা আক্তারকে ভর্তি করানো হয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় সুন্দরবন হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ সবুজ কুমার দাস, পরিচালক মোঃ রেজাউল ইসলামসহ ৫/৬ জনে মিলে প্রসূতি মোসাঃ মেঘলা আক্তারের সিজারিয়ান অপারেশন শুরু করেন। এসময় রাত পোনে ১১টায় সুন্দরবন হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অপারেশন থিরিটারে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় প্রসূতি মোসাঃ মেঘলা আক্তার এবং নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এর পর সুন্দরবন হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা, ডাক্তার, নার্সসহ সকল স্টাফরা পালিয়ে যায়। পরে

মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় বামনা থানা অফিসার ইনচার্জ তুষার কুমার মন্ডলের নেতৃত্বে প্রসূতি মোসাঃ মেঘলা আক্তারের বাবার বাড়ী উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়নের গুদিঘাটা গ্রাম থেকে প্রসূতি মোসাঃ মেঘলা আক্তার ও নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে বরগুনা মর্গে পাঠায়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বামনা থানায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় বামনা উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তারেক হাসান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান মনির এবং বামনা থানা অফিসার ইনচার্জ তুষার কুমার মন্ডল সুন্দরবন হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তালা লাগিয়ে সিলগালা করে দেন।

এ বিষয়ে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা কলেজ রোডে অবস্থিত সুন্দরবন হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার জন্য বৈধ কোন কাগজপত্র নেই। সুন্দরবন হসপিটাল কর্তৃপক্ষের ভুল চিকিৎসার কারণে প্রসূতি মোসাঃ মেঘলা আক্তার ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। তাই আমরা সুন্দরবন হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তালা লাগিয়ে দিয়েছি।

সুন্দরবন হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেয়ারম্যান এবং বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়েও পাওয়া যায়নি। অপর দিকে সুন্দরবন হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে মালিক পক্ষ, ডাক্তার, নার্সসহ কোন স্টাফও পাওয়া যায়নি।