মুলাদীতে প্রথম ব্রি ধান-৭৪ আবাদে কৃষকের মুখে হাসির জোয়ার

ভূঁইয়া কামাল, মুলাদী (বরিশাল)।।
বরিশালে মুলাদী উপজেলায় চলমান বোরো মৌসুমের সফিপুর ইউনিয়নে ব্রি ধান-৭৪এর কর্তন শুরু হয়েছে। নমুনা শস্য কর্তনের দেখা যায় ব্রি ধান-৭৪ এর ফলন হেক্টর প্রতি ৬.৮ টন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসির জোয়ার।

উপজেলায় এ বছর বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৫৪০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ হেক্টর। ব্রি ধান-৭৪ আবাদ হয়েছে ২১৫ হেক্টরে। ব্রি ধান-৭৪ ফলন বেশি হওয়ার কারণে দিন দিন জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

চলতি বোরো মৌসুমে এ জাতের ধান আবাদ করে উপজেলার ৮ ইউনিয়নে কৃষি ব্লকের ৩৫৭জন কৃষক বাম্পার ফলন পেয়েছে। প্রথমবারের মতো মুলাদী ৭টি ইউনিনের মধ্যে ৬ ইউনিয়নের কৃষকরা এ নতুন জাতের ধান আবাদ করে ভালো ফসল ঘরে তুলেছে।

উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবার উচ্চফলনশীল বিনা-১০, ব্রি-২৮, ব্রি-২৬ ও ব্রি-৪৭ জাতের ধান আবাদের পাশাপাশি উপজেলার ব্রি-৭৪ ধান আবাদ করা হয়েছে। ওই ইউনিয়নের ৩০০জন কৃষকের মধ্যে এবার মৌসুমে শুরুতে তিন কেজি করে ব্রি-৭৪ বীজ বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়। ১৫৫ হেক্টর জমিতে তারা এই বীজ আবাদ করে। সঠিক পরিচর্যা ও আবহাওয়ায় অনুকূলে থাকায় হেক্টরপ্রতি গড়ে ৫.১৫ থেকে ৫.৩০ টন ধান পেয়েছে তারা। ফলে এ ধান আবাদে কৃষকদের মধ্যে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।

সফিপুর ইউনিয়নের ভেদুরিয়া গ্রামের কৃষক মোঃ হিরোন বলেন, বোরো মৌসুমে নতুন জাতের বোরো ধান ব্রি-৭৪ আবাদ করে লাভবান হয়েছি। কৃষকরা সবাই ভালো ফলন পেয়েছে। ফলে অন্য কৃষকরাও এ ধান আবাদে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

এ ব্যাপারে ৮ ইউনিয়নের কৃষি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ কবির উদ্দিন বলেন, কৃষকরা নতুন জাতের ধান আশানুরূপ ফলন পেয়েছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে। কৃষকদের এ জাতের ধানের বীজ সুরক্ষার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, ব্রি ধান-৭৪ এলাকায় একেবারেই নতুন জাতের ধান। ভিটামিন ও জিংক সমৃদ্ধ অধিক ফলনশীল এ ধান আবাদে ১শ ৪০ থেকে ৪৫ দিন মধ্যে ফলন আসে। এ ধান আকারে লম্বাটে ও মোটা। প্রতিটা ধানের ছড়ায় ১৪০ থেকে ১৫০টি ধান ফলে। ফলে একই জমিতে বছরে তিনবার ফসল চাষ করা যায়। আর এই ধানে ব্লাস্ট ও পোকা মাকড়ের উৎপাতও কম। আগামী বোরো মৌসুমে এ জাতের ধান আবাদে সম্প্রসারণ ঘটাতে কৃষি বিভাগ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে।